West Bengal Election: বদলার রাজনীতি নয়, উন্নয়নের অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কণ্ঠে
West Bengal Election: বদলার রাজনীতি নয়, উন্নয়নের অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কণ্ঠে
তৃতীয়পক্ষ ওয়েবডেস্ক: এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছিল এসআইআর। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যজুড়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হওয়ায় অনেকেই মনে করেছিলেন বিজেপি কিছুটা চাপে পড়তে পারে। তবে সোমবারের ফলাফল অন্য ইঙ্গিত দেয়। গণনা যত এগিয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাজ্যের দায়িত্ব বিজেপির হাতেই তুলে দিয়েছেন মানুষ। একের পর এক গণনাকেন্দ্র থেকে বিজেপির এগিয়ে থাকার খবর সামনে আসে, আর ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেস। শেষ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বিজেপি।
দিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রী এদিন বাংলার উন্নয়ন নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ রাজ্যেই বিজেপির সরকার রয়েছে এবং জনসেবাই তাঁদের মূল লক্ষ্য, তাই মানুষ তাঁদের ওপর আস্থা রাখে। ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির আদর্শের কথাও তিনি উল্লেখ করেন এবং বলেন, পশ্চিমবঙ্গের জন্য তাঁর দীর্ঘ লড়াই আজ নতুন অর্থ পেল। ৪ মে ২০২৬-এ বাংলার মানুষ বিজেপিকে সুযোগ দিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। তাঁর দাবি, রাজ্য এখন ভয়মুক্ত হয়ে উন্নয়নের পথে এগোবে।
তিনি আরও বলেন, এই জয় কেবল আসনের সংখ্যা নয়, বরং হিংসা, ভয় ও তুষ্টিকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষের জবাব। বিজেপি প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরলসভাবে কাজ করবে। মহিলাদের নিরাপত্তা, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং স্বাস্থ্যপরিষেবা উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে। প্রথম মন্ত্রিসভাতেই আয়ুষ্মান ভারত চালুর কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তাঁর মতে, বাংলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা হবে এবং প্রতিহিংসার বদলে পরিবর্তনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা পাবে।

প্রধানমন্ত্রী এই দিনটিকে ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন এবং দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত। বিভিন্ন রাজ্যের ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন গোটা বিশ্বের সামনে ভারতের গণতান্ত্রিক শক্তিকে তুলে ধরেছে।
ভোটদানের হার নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোট পড়াকে তিনি ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন এবং বিশেষভাবে মহিলাদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করেন।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে বামফ্রন্টকে হারিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে এবং টানা তিনবার জয় পায়। তবে ২০২৬-এর নির্বাচনে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়। এবার রাজ্যের শাসনভার চলে গেল বিজেপির হাতে, যা বাংলার রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।










