c/o : চিঠি।। ভজন দত্ত

ডিলিট দেওয়া একটি চিঠি

বিশ্বাস কর কতবার তোকে লিখেছি আর ডিলিট দিয়েছি তার কোনো হিসাব রাখিনি। অবশ্যই বিশ্বাস বড়ো বিষম বস্তু, তা শুধুই উপলব্ধির। তবুও পথ চলতে চলতে  কত মানুষকে আমরা বিশ্বাস করে ঠকি।  ঠকতে ঠকতেই কি শেখা হয়! শেখার পরেও কি ঠকিনি আমরা কেউ!  জীবন যতদিন, ততদিন চলে শেখার প্রক্রিয়া। জীবনব্যাপী শেখা আর শেষ হয় না চিতায় বা কবরে না যাওয়ার আগে। তোর বিচক্ষণতা, বিচার ধারা, কর্মপদ্ধতি, অনুভূতি ও উপলব্ধির সমালোচক বা আলোচক আমি হতে পারি না! কোনোদিন হওয়ার চেষ্টাও করিনি।  আমি তোর গুণমুগ্ধ এক অতি সাধারণ  দীন মানুষ হলেও আজ পর্যন্ত স্বপ্নেও চাইনি, আমার জন্য কেউ ভালো না থাক।  খারাপ তো চাইতেই পারি না। কেনই বা চাইবো!প্রেমহীন এই হিংসাত্মক পৃথিবীতে  ভালো থাকাটা বোধ হয় একটা আর্ট! তা তো ব্যক্তির একান্তই  নিজস্ব চাওয়া,সেই চাওয়াটা অপরের হলেও, ব্যক্তি ভালো না থাকলে তো কিছুই করার থাকে না! আমি,তুই কেউ যদি ভালো না থাকি তাতে কারই বা কি করার থাকে! ভালো থাকার আর্টের আ-ও শেখা হয়নি।  ভুলভাল একটা মানুষ হিসেবে আমাকে ক্ষমা না করলেও ঘেন্না তো করতেই পারিস । এই পারা বা না পারাটাও অবশ্যই ব্যক্তির নিজস্ব। সেখানে তো কারো প্রবেশাধিকার থাকে না, অন্তরের কাছে কোনো জোর জবরদস্তি চলে না রে। তবুও তোকে কটা কথা না লিখলে যে প্রাণে শান্তি নেই।

কবিতা ।। ভজন দত্ত।।

আমার যেটুকু পৃথিবী সেটা যদি স্তব্ধ হয়ে যায় যাক, তবুও ভীষণ ভীষণ ইচ্ছে , কিবোর্ডে একটা ঝড় উঠুক। কিন্তু হাত কাঁপছে। এলোমেলো ভাবনাগুলো কিছুতেই জমাট বাঁধছে না। যা লিখতে চাই, সেই সব শব্দের বর্ণমালা এলেমেলো হয়ে যায়, বাক্যগঠনের আগেই, তারা হারিয়ে যায়।  প্রতিটি বর্ণের যেন আজ ভীষণ জ্বর, জ্বরের ঘোরে তারা শুধু তোর নাম, তোর কথা, তোর সঙ্গে কাটানো সময়স্মৃতির ভেতর ক্রমাগত ডুব দিয়ে  যায়।  আমি যতই  ওদের থামতে বলি, ওরা থামে না। তুইও তো নেই! কে দেবে ওদের জলপট্টির শুশ্রূষা! তুই পারতিস, অবশ্যই পারতিস,   হয়তো দিতে পারতিস। হয়তো আমি বুকে জড়িয়ে নিতে পারতাম না। তবুও লিখে রাখি, বিশ্বাস কর, তুই ছাড়া আমার নিবেদন, আমার অর্পণের মানুষ যে আর কেউ নেই ।

আঁধার-মিনারের চূড়ায় বসে আমি যখন  ছিদ্রাণ্বেষী আলোর সন্ধানের ব্যস্ত, যখন  তোকে মনে করে প্রিয় বর্ণগুলি সমস্বরে কাঁদতে কাঁদতে কানের কাছে বলে, আমাদের জন্ম দাও, জন্ম দাও আমাদের অক্ষরশরীর দাও। তখন তোকে লিখতে লিখতে  বসি, দাঁড়াই, শুই, অ্যালজোলাম পেটে ঘুমোবার চেষ্টা করি, পরিবেশকে নিকোটিনিক করি, অদৃশ্যের ভেতর হাত বাড়িয়ে দিই, ছ্যাঁকা খাই, ব্যর্থ হই। ব্যর্থলগ্নে জন্ম যার তার জীবনে  সাফল্য এক স্বপ্নের দ্বীপ। তোকে কিছুই লেখা হয় না। বিশ্বচরাচর জুড়ে যত কান্না সেসবই বুকের ভেতর ঢেউ তোলে। যেকথা তোকে বলতে চাই, লিখতে চাই, তোকে জানাতে চাই তার একটা কথাও তোকে বলতে পারি না। শূন্যের ভেতর সকল কান্না রাখি, আকাশের তারাদের ভিতর খুঁজি সেই দুটি কবিতা চোখ, দেখতে পাই না। নিঃশব্দে রাত যায় দিন আসে, দিন গড়ায় সন্ধ্যাতারার দিকে আমি শুধু অকারণ লিখে যাই আরও ডিলিট করি, ডিলিট দিই তোকেও। তারপর বিন ঘেঁটে ঘেঁটে তন্নতন্ন করে সেসব খুঁজি আর তোকে মনে করি।

পুনশ্চ : ভালো থাক লিখলাম না। তুই তো জানিস, ভালো করেই জানিস, বলেওছিস, কাউকে ভালো রাখতে আমি জানি না, কাউকে আমি ভালো রাখতে পারি না। কাউকেই আমি ভালো রাখতে জানি না। ঠিক আছে, তাই বলে, আমার ভালো না থাকার অসুখে তোর শুশ্রূষাউপস্থিতি কি চাইতে পারি না!

———-

ভজন দত্ত

শেয়ার করতে:

You cannot copy content of this page