Mental Health: ওয়ার্ক ফ্রম হোমে বাড়ছে মনের রোগ

Mental Health: ওয়ার্ক ফ্রম হোমে বাড়ছে মনের রোগ

শুরুটা হয়েছিল কোভিড-১৯ মহামারির সময় থেকে। ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার প্রচলন মেনে নিতে হয়েছিল সুস্থতা রক্ষার খাতিরে। কিন্তু তার পর থেকে এর প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। প্রথমদিকে এটি অনেকের কাছে আশীর্বাদ বলে মনে হলেও, সময়ের সঙ্গে এর কিছু নেগেটিভ প্রভাবও সামনে এসেছে। বিশেষ করে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব ভালোরকম উদ্বেগজনক, এমনটাই মনে করছেন স্বাস্থ্যবিদরা।

যেখানে অফিসে কাজ করার সময় সহকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, আড্ডা বা মতবিনিময়ের সুযোগ থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিন ঘরে বসে কাজ করলে সামাজিক যোগাযোগ কমে যায়। যার ফলে একাকিত্ব, বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। অনেক কর্মী জানিয়েছেন, দিনের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে কাজের চাপও বেড়ে গেছে। অফিস ও ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা সবসময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকছেন বলে অনুভব করেন।

২০২৫ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত কয়েকটি সমীক্ষায় দেখা যায়, বাড়ি থেকে কাজ করা কর্মীদের একটি বড়ো অংশ মানসিক চাপ, নিদ্রাহীনতা এবং উদ্বেগে ভুগছেন। ভারতের বেঙ্গালুরুর এক তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে তিনি টানা অনলাইন মিটিং ও কাজের চাপে মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হন। এমন উদাহরণ এখন আর বিরল নয়।

তবে সমস্যার সমাধানও আছে। নিয়মিত ব্যায়াম, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, নির্দিষ্ট কাজের সময় মেনে চলা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল যোগাযোগ বজায় রাখা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

একদিকে প্রযুক্তি আমাদের কাজকে সহজ করেছে, কিন্তু মানুষের মানসিক সুস্থতার বিকল্প হতে পারেনি। তাই ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

শেয়ার করতে:

You cannot copy content of this page